শিক্ষক নিয়োগে : যাদের জন্য দুঃসংবাদ


এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চূড়ান্ত সুপারিশ পাবেন ৪১ হাজারের বেশি প্রার্থী। ২২ হাজার ৪১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৮২২টি শূন্যপদের চাহিদা পাওয়া যায়। এর মধ্য থেকে ভুল চাহিদার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের লিখিত আবেদন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে পাঠানো শূন্যপদ বাতিলের প্রেক্ষিতে মোট ৭৭৫টি পদের চাহিদা বাতিল করা হয়।



ফলে ১ লাখ ৪৭টি পদের চাহিদার বিপরীতে ৫৭ হাজার ৮৪০ জন নিবন্ধনধারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপারিশ পাবেন ৪১ হাজারের বেশি প্রার্থীরা। এতে বেশ কছিু বিষয়ে শূন্যপদের সংখ্যা বা পাস করা প্রার্থীদের সংখ্যা কম-বেশি হওয়ার কারণে পদ ফাঁকা থেকে যাবে। এর মধ্যে সহকারী মৌলভী, আইসিটি, চারু ও কারুকলাসহ আরো কিছু বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা বেশি লক্ষ করা গেছে। অর্থাৎ এসব পদের বিপরীতে পাস ও পদসংখ্যার অসামঞ্জস্যতা বেশি। ফলে অনেক পদ ফাঁকা থাকবে।


রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছে।



জানা গেছে, একই সঙ্গে ১৫ হাজারের বেশি প্রার্থী সুপারিশ পাবেন না। অর্থাৎ পদের বিপরীতে কোনো বিষয়ে পাস করেছেন বেশি সংখ্যক প্রার্থী। আবার পদসংখ্যা অনেক বেশি রয়েছে কোনো বিষয়ে কিন্তু, সে অনুযায়ী প্রার্থীরা পাস করেনি। বিশেষ করে এই দুই কারণে কিছু প্রার্থী সুপারিশ পাবেন না।


সূত্র অনুযায়ী, ৪১ হাজারের বেশি প্রার্থী সুপারিশ পাচ্ছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের লিখিত আবেদন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে পাঠানো শূন্যপদ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৭৭৫টি পদের চাহিদা বাতিল করা হয়।



শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এনটিআরসিএর শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহের বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২২ হাজার ৪১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ১ লাখ ৮২২টি শূন্যপদের চাহিদা পাওয়া যায়। এই ১ লাখ ৮২২টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ কারার জন্য গত ১৬ জুন ৬ষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।


নিবন্ধিত প্রার্থীদের কাছ থেকে ২২ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে ৫৭ হাজার ৮৪০টি আবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে পুরুষ আবেদনকারীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৮০৪ জন এবং মহিলা আবেদনকারীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৬ জন। আবেদন গ্রহণকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের লিখিত আবেদন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে পাঠানো শূন্যপদ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৭৭৫টি পদের চাহিদা বাতিল করা হয়।



এই চাহিদা বাতিলের পর অবশিষ্ট ১ লাখ ৪৭টি পদের বিপরীতে নিবন্ধনধারী প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রার্থীদের মেধাক্রম ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে টেলিটক বাংলাদেশ লি. থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীদের নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। আশা করা যায়, আনুমানিক ৪১ হাজারের অধিক সংখ্যক পদের বিপরীতে সুপারিশ করা সম্ভব হবে।


মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের গত বছরের ২৫ জানুয়ারি জারিকৃত পরিপত্রের ৫.১ নম্বর অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী এনটিআরসিএ কর্তৃক নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে পুলিশ ফেরিফিকেশন প্রতিবেদন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।


মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৯ জুলাই সংশোধনকৃত পরিপত্রের ৫.১ নম্বর অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশকৃত প্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে সংগৃহীত পুলিশ ফেরিফিকেশন প্রতিবেদন ফরম সরাসরি পুলিশ অধিদপ্তরের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হবে।



মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের গত বছরের ২৫ জানুয়ারি জারিকৃত পরিপত্রের ৬.০ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে যে, "নির্বাচিত প্রার্থী চাকরির জন্য উপযুক্ত বলে পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তির ভিত্তিতে অথবা ক্ষেত্র বিশেষে পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান অবস্থায় শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ সুপারিশ দেয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদনের ভিত্তিতে এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করে প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত করবে।


এমন পরিস্থিতিতে, সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক সংকট দূরীকরণ ও মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক ৬ষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি- ২০২৫ এর আওতায় পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম চলমান অবস্থায় শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ সুপারিশের জন্য সদয় অনুমতি দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি নিয়ে সুখবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি নিয়ে সুখবর

ফলাফল প্রকাশ দেখবেন যেভাবে!