দ্রুত নিয়োগ সুপারিশে নতুন যে পরিকল্পনা এনটিআরসিএর
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এনটিআরসিএর পরিপত্রে শিক্ষক নিয়োগে বাছাই বা নির্বাচনী পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাছাই বা নির্বাচনী পরীক্ষা বলতে সেটি এমসিকিউ বা লিখিত হতে পারে। এছাড়া আলাদা করে গণবিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই প্রার্থীর বয়স গণনা করার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগের প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এর মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১৮টি নিবন্ধন পরীক্ষা এবং ৫টি গণবিজ্ঞপ্তি সম্পন্ন করেছে। ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম চলছে।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে আর আলাদা করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করার প্রস্তাব করেছে এনটিআরসিএ। ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির পর আর কোনো গণবিজ্ঞপ্তি দিতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তিতেই হবে শিক্ষক নিয়োগ। এনটিআরসিএর বিধি সংশোধনে পরীক্ষা কমানোসহ নানা নতুন চিন্তা রয়েছে। যা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি খসড়া মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে পরিপত্র জারি হতে পারে। পরিপত্রের খসড়া দৈনিক আমাদের বার্তার হাতে রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এনটিআরসিএর পরিপত্রে শিক্ষক নিয়োগে বাছাই বা নির্বাচনী পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাছাই বা নির্বাচনী পরীক্ষা বলতে সেটি এমসিকিউ বা লিখিত হতে পারে। এছাড়া আলাদা করে গণবিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই প্রার্থীর বয়স গণনা করার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানান, আগামীতে শিক্ষক পদে সুপারিশ ও বাছাই কার্যক্রমে পরিবতর্নের অংশ হিসেবে আলাদা বিজ্ঞপ্তি না দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে তা বাস্তবায়ন হবে। ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির পর এটা বাস্তায়ন করা হতে পারে।
জানা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ সুপারিশ শেষ করতে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে অনেকের বয়স শেষ হয়ে যায়। তখন গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারেন না। এসব অবস্থা দূর করতে এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ বিধি সংশোধন করা হচ্ছে।
এখন শিক্ষক নিবন্ধনে যেভাবে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয় বিধি সংশোধন হলে সেভাবে আর হবে না। অনেকটা বিশেষ বিসিএসের মতো হবে। ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় এমসিকিউ, লিখিত থাকতে পারে। শেষে ভাইভা।
শূন্যপদের সংখ্যা যত হবে, তার দ্বিগুণ প্রার্থীকে ভাইভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। শূন্যপদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি প্রার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হবে। এতে করে কেউ যোগদান না করলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
ফলে নিবন্ধন পাস করে প্রার্থীদের আর দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হবে না বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে যাত্রা শুরুর সময় শুধু প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণী সনদ দেয়া হতো। সেটা দেখিয়ে শিক্ষক পদে আবেদন করা যেতো। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা কমিটির নেয়া পরীক্ষাই ছিলো চূড়ান্ত। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত দায়িত্ব পায় এনটিআরসিএ।

Comments
Post a Comment