ঢাকাতে জন্য বড় দুঃসংবাদ,
তালিকার শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি, যার একিউআই স্কোর দাঁড়ায় ৩৪০—এটি ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা ‘বিপর্যয়কর’ মাত্রা। একই সময়ে তৃতীয় স্থানে ছিল নেপালের কাঠমান্ডু (১৯১), চতুর্থে ভারতের কলকাতা (১৮৮) এবং পঞ্চমে পাকিস্তানের করাচি (১৮১)।
ঢাকার বাইরেও আশপাশের কয়েকটি এলাকার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। টঙ্গীতে একিউআই স্কোর ৪২৬, গাজীপুরে ৩৯৪ এবং সাভারে ৩৪৩ রেকর্ড করা হয়েছে। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ৩০১-এর বেশি স্কোর হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়। সে হিসাবে এই তিনটি অঞ্চলের বাতাস আজ অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে।
আইকিউএয়ার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শহরের বায়ুমান তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপ করে। তাদের সূচক অনুযায়ী, একিউআই শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাস ভালো, ৫১ থেকে ১০০ হলে সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বায়ুদূষণ এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষই এর ক্ষতিকর প্রভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। দূষিত বায়ুর ধুলিকণা শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে প্রথমেই চোখ ও নাকে জ্বালা, লালচে ভাব, পানি পড়া ও অ্যালার্জির মতো সমস্যা তৈরি করে। নাকে পানি পড়া, হাঁচি, রাইনাইটিস, সাইনোসাইটিস এমনকি রক্তক্ষরণও হতে পারে। গলা ও শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে কাশি ও স্বরভঙ্গের সমস্যা দেখা দেয়।
দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আরও মারাত্মক। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, সিওপিডি, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, এমনকি লিভার ও কিডনির জটিলতাও দেখা দিতে পারে। ত্বকের রোগ, অ্যালার্জি ও সোরিয়াসিসের প্রকোপও বাড়ে দূষিত বায়ুর কারণে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিরা। বায়ুতে অতিরিক্ত সিসা থাকলে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, বুদ্ধিবিকাশে বাধা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ এখন বায়ুদূষণ। বিশ্বব্যাপী এ বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশের বেশি এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়। অকাল প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম, জন্মগত ত্রুটি কিংবা ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সিসার উচ্চমাত্রা স্নায়ুরোগ, রক্তশূন্যতা ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বায়ুদূষণজনিত কারণে। এর মধ্যে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, সিওপিডি, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট দূষণ একাই বছরে প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ। এছাড়া গৃহস্থালির রান্নাবান্না ও অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩২ লাখ মানুষ প্রাণ হারান।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ঢাকার বর্তমান বায়ুমান শুধু অস্বস্তিকর নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর হুমকি। এখন প্রয়োজন কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

Comments
Post a Comment